সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ০৭:১০ অপরাহ্ন

চৌদ্দগ্রামে চিওড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ

সাংবাদিকের নাম:
  • আপডেট সময় : সোমবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৪
  • ৪১ জন দেখেছেন

 

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চিওড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পিয়ন ইয়াকুব আলী কর্তৃক মো: মাসুদ পারভেজ নামে এক সেবাগ্রহীতাকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে না পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা বরাবর সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিকালে অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগি ওই সেবাগ্রহীতা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মো: মাসুদ পারভেজ খরিদা সূত্রে চিওড়া ইউনিয়নের পাতড্ডা মৌজার বিএস ৮২৬ দাগে ০৮ শতক জমির মালিক হইয়া নামজারি ও জমাখারিজের আবেদন (মোকদ্দমা নং-৭২২৩/২০২৩) করেন। পরবর্তীতে ওই আবেদনটি মঞ্জুর সাপেক্ষে ৪১৯নং নতুন খতিয়ান মাসুদ পারভেজের নামে সৃজিত হয়। এরপর তিনি নিজ নামে নিবন্ধন সহ খাজনা (ভূমি কর পরিশোধ) দাখিলার জন্য অনলাইনে আবেদন করে সোমবার সকালে চিওড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গেলে অফিস সহকারী মো: ইয়াকুব আলী তাকে দুই-তিন ঘন্টা বসিয়ে রেখে আবেদন এর পাসওয়ার্ড চায়। ভুক্তভোগি পাওয়ার্ড মনে নেই বলার পর তাকে পাসওয়ার্ড আনতে পুনরায় চৌদ্দগ্রাম বাজারে পাঠিয়ে দেন অফিসের ওই পিয়ন। এরপর তিনি চৌদ্দগ্রামে বাজারের কম্পিউটার দোকানে এসে পাসওয়ার্ড জানার চেষ্টা করলে কম্পিউটার দোকানদার তাকে জানান, আবেদন পাসওয়ার্ড একান্তই আবেদনকারী সেবা গ্রহীতার। এটি ভূমি অফিসের কারো প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়। আবেদনটি অনুমোদন দেওয়াই শুধু ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাজ। পরে তিনি ইউনিয়ন ভূমি অফিস পিয়ন ইয়াকুবকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, ঠিক আছে, পাসওয়ার্ড লাগবে না। এরপর আগামী বুধবার বা বৃহস্পতিবার কম্পিউটার অপারেটর আসবে, আপনি ঐদিন আসেন বলেই তিনি ফোনটি কেটে দেন। এর আগেও ভুক্তভোগি সেই গ্রাহক জমাখারিজের আবেদনের মূল কাগজপত্র সহ ভুক্তভোগি ওই সেবাগ্রহীতা চিওড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে হস্তান্তর করলে পিয়ন ইয়াকুব তাকে একাধিকবার কল করে দেখা করতে বলেন। দেখা করলে সে জানায় আপনার কাগজপত্রে সমস্যা আছে, সরকারি খরচে কাজ হবেনা। বাড়তি টাকা লাগবে। পরে তাকে বাড়তি টাকা দিলে সে জমাখারিজের কাজটি কিছুদিন পর শেষ করে দেন। এভাবেই পিয়ন ইয়াকুব কর্তৃক গ্রাহক হয়রানি চলছে চিওড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। পিয়ন ইয়াকুবই যেন ওই ভূমি অফিসের বড় কর্তা। তার ব্যাপারে এর আগেও গ্রাহক হয়রানির একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। পরে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সোমবার বিকালে ভুক্তভোগি মাসুদ পারভেজ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অনাকাঙ্খিত এ ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে এবং ভভিষ্যৃতে এমন কাজ হবেনা জানিয়ে অভিযুক্ত চিওড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পিয়ন ইয়াকুব আলী জানান, ‘আমাদের মাঝে একটু ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। পরে বিষয়টির সমাধান হয়েছে।’

এ বিষয়ে চিওড়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অমলেন্দু বিকাশ দাস বলেন, ‘সোমবার দুপুর থেকে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর সাথে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ছিলাম। গ্রাহকের খাজনা দাখিলার অনলাইন আবেদন এর পাসওয়ার্ড অফিস পিয়নের চাওয়ার ইখতিয়ার নেই। বিষয়টি নিয়ে উভয়ের মাঝে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে।’

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির অরো খবর
Raytahost Facebook Sharing Powered By : Raytahost.com